বেলেম, ব্রাজিল: ব্রাজিলে এখন বসন্তকাল; তাপদাহের সঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টি হয়। কিন্তু কপ-৩০ সম্মেলনের প্যাভিলিয়নগুলোতে এই আবহাওয়ার প্রতি কোনো খেয়াল রাখা হয়নি। প্লাস্টিকের বদ্ধ ঘরে দমবন্ধ গরম ও কোলাহলের কারণে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়নি। ১৪ নভেম্বর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা, প্রবেশদ্বার মেরামত এবং প্রতিবাদের কারণে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বেলেমে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু সহনশীল লোকায়ত স্থাপত্য’ অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে গ্রামীণ স্থাপত্য এবং স্থানীয় জ্ঞানকে তুলে ধরা হয়। আলজেরিয়ার কসুর, ইথিওপিয়ার গজু, কলম্বিয়ার আরুহুয়াক আদিবাসীদের ঘরগুলো প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি, আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্থায়িত্বপূর্ণ। উরুবা, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার আদিবাসীদের উদাহরণ দেখানো হয়, যেখানে লোকায়ত স্থাপত্য জলবায়ু অভিযোজন এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বরেন্দ্র, সুন্দরবন এবং পাহাড় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর, হোড়া, কুম্বা ও গোল–গরান ঘরগুলোও একই ধরনের প্রাকৃতিক অভিযোজনের উদাহরণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান বলেন, মাটির ইন্টারলকিং ব্লক সিস্টেম ভূমিকম্প, ঝড় ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
জর্ডানের রাজকন্যা ডানা ফারিস মান এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অভিযোজনের লক্ষ্যমাত্রায় লোকায়ত স্থাপত্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় জ্ঞান শুধু সংরক্ষণ নয়, বর্তমান জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর হাতিয়ার।
ব্রাজিলের স্থপতি এলিন ভিয়েরা কারভালহো ও অন্যান্য প্রতিনিধিরাও লোকায়ত স্থাপত্যকে জলবায়ু-সহনশীল নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, গ্রামীণ স্থাপত্যবিদ্যা শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জলবায়ু অভিযোজনের চাবিকাঠি।
