দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় জানুয়ারি মাসে মাত্র ১০ দিনে এক বছরের সমান বৃষ্টিপাত হয়েছে।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ‘সক্রিয়ভাবে আরও ভয়ঙ্কর’ হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ)’র বিজ্ঞানীরা এমনটাই জানিয়েছেন।

জোহানেসবার্গ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ডিসেম্বর থেকে অবিরাম বর্ষণের কারণে মোজাম্বিকের বিশাল অংশ পানিতে ডুবে গেছে। এই বন্যায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের ক্ষতি হয়েছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতেও প্রানহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আবহাওয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক দল ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) নেটওয়ার্কের বিজ্ঞানীরা এক প্রতিবেদনে জানান, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১০ দিনের তীব্র বৃষ্টিপাতে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি তীব্র হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ থেকে ১৯ জানুয়ারি মোজাম্বিকের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাজা প্রদেশে ৫০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা প্রায় পুরো বছরের গড় বৃষ্টিপাতের সমান।

রয়্যাল নেদারল্যান্ডস মেটেরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ইজিদাইন পিন্টো বলেন, ‘মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।’

এক সংবাদ সম্মেলনে পিন্টো বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি, সঙ্গে উচ্চ ঝুঁকি ও প্রকাশ্য ক্ষয়ক্ষতি মিলে মোজাম্বিকের ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বন্যায় রূপ নিয়েছে।’

শীতল আবহাওয়ার লা নিনা নামের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দক্ষিণ আফ্রিকায় গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি বয়ে আনে। এই পরিস্থিতি বৃষ্টিপাতের তীব্রতার জন্য প্রায় ২২ শতাংশ দায়ী।

মোজাম্বিকের ন্যাশনাল ডিজাসটারস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টটিউট (আইএনজিডি) জানায়, ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় প্রায় ১৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নদী তীর ভেঙে যাওয়ায় কিছু এলাকার রাস্তাঘাট সড়ক চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার লিমপোপো ও ম্পুমালাঙ্গা প্রদেশেও বন্যায় ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এতে বিখ্যাত ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কসহ বহু মূল্যাবান সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞান অধ্যাপক ফ্রিডেরিক ওটো এই ভয়াবহ বন্যাকে ‘জলবায়ু অসাম্যের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে ও ইসোতিনী কোনোভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখেনি এবং এই দেশগুলো তেল, গ্যাস বা কয়লা বিক্রি করেও লাভবান হয়নি। কিন্তু তারপরও তারা প্রাণ, বাসস্থান ও জীবিকা হারাচ্ছে।

">
সর্বশেষ খবর:
রেকর্ডভাঙা গরমের বছর হতে যাচ্ছে ২০২৬ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনে দ. আফ্রিকায় বন্যা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে: গবেষণা সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ ও সহিংসতা দমনে প্রস্তুত কোস্ট গার্ড : মহাপরিচালক যুবকদের জন্য চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি: ডা. শফিকুর রহমান শেরপুরের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসিকে প্রত্যাহার: ইসি সচিব রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন : প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন বেলেম থেকে অভি আহমেদ জুয়েল : ব্রাজিলে জলবায়ু সম্মেলনে ‘লোকায়ত স্থাপত্য’ আলোচনার গুরুত্ব জলবায়ু অর্থায়ন দয়া বা ঋণ হিসেবে চাই না, এটি আমাদের অধিকার: উপদেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে তরুণদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সাফল্য ধনী দেশগুলো প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা COP30-এ যুব নেতৃত্বের দৃশ্যমান অগ্রগতি: বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ বিষয়ক বৈশ্বিক আলোচনা জাতিসংঘ আগামী শুক্রবার বিলুপ্ত হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে কী হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ খেলার ঘোষণা দিলেন রোনালদো অ্যামাজনে ১ লাখ গাছ কেটে ‘জলবায়ু বাঁচাও’ যাত্রা শুরু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিসিসিটি ফান্ডের আওতায় ১৮ প্রকল্প অনুমোদন জলবায়ু বিপর্যয় ঠেকাতে ব্রাজিলের চেষ্টা ব্রাজিলে এবারের জলবায়ু সম্মেলন অনেক ঝক্কির

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনে দ. আফ্রিকায় বন্যা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১ মাস আগে, : 0

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনে দ. আফ্রিকায় বন্যা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে: গবেষণা



দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় জানুয়ারি মাসে মাত্র ১০ দিনে এক বছরের সমান বৃষ্টিপাত হয়েছে।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ‘সক্রিয়ভাবে আরও ভয়ঙ্কর’ হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ)’র বিজ্ঞানীরা এমনটাই জানিয়েছেন।

জোহানেসবার্গ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ডিসেম্বর থেকে অবিরাম বর্ষণের কারণে মোজাম্বিকের বিশাল অংশ পানিতে ডুবে গেছে। এই বন্যায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের ক্ষতি হয়েছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতেও প্রানহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আবহাওয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক দল ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) নেটওয়ার্কের বিজ্ঞানীরা এক প্রতিবেদনে জানান, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১০ দিনের তীব্র বৃষ্টিপাতে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি তীব্র হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ থেকে ১৯ জানুয়ারি মোজাম্বিকের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাজা প্রদেশে ৫০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা প্রায় পুরো বছরের গড় বৃষ্টিপাতের সমান।

রয়্যাল নেদারল্যান্ডস মেটেরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ইজিদাইন পিন্টো বলেন, ‘মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।’

এক সংবাদ সম্মেলনে পিন্টো বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি, সঙ্গে উচ্চ ঝুঁকি ও প্রকাশ্য ক্ষয়ক্ষতি মিলে মোজাম্বিকের ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বন্যায় রূপ নিয়েছে।’

শীতল আবহাওয়ার লা নিনা নামের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দক্ষিণ আফ্রিকায় গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি বয়ে আনে। এই পরিস্থিতি বৃষ্টিপাতের তীব্রতার জন্য প্রায় ২২ শতাংশ দায়ী।

মোজাম্বিকের ন্যাশনাল ডিজাসটারস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টটিউট (আইএনজিডি) জানায়, ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় প্রায় ১৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নদী তীর ভেঙে যাওয়ায় কিছু এলাকার রাস্তাঘাট সড়ক চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার লিমপোপো ও ম্পুমালাঙ্গা প্রদেশেও বন্যায় ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এতে বিখ্যাত ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কসহ বহু মূল্যাবান সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞান অধ্যাপক ফ্রিডেরিক ওটো এই ভয়াবহ বন্যাকে ‘জলবায়ু অসাম্যের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে ও ইসোতিনী কোনোভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখেনি এবং এই দেশগুলো তেল, গ্যাস বা কয়লা বিক্রি করেও লাভবান হয়নি। কিন্তু তারপরও তারা প্রাণ, বাসস্থান ও জীবিকা হারাচ্ছে।